শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
গরমে পাকা আম-লিচু খেতে মজা, কিন্তু সতর্ক না হলে বিপদ!
অনলাইন ডেস্ক
গ্রীষ্ম মানেই বাজারে রঙিন ফলের মেলা—পাকা আম, টসটসে লিচু, আর রসালো জাম দেখে জিভে জল আসা স্বাভাবিক! এসব ফল যেমন সুস্বাদু, তেমনই ভরপুর পুষ্টিগুণে। কিন্তু অতিরিক্ত খেলেই বিপদ হতে পারে শরীরের জন্য। বিশেষ করে যাঁদের রয়েছে ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ—তাঁদের তো অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে।
কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ১–২টি মাঝারি আম, ৮–১০টি লিচু বা ছোট এক বাটি (১০০–১৫০ গ্রাম) জাম খেতে পারেন। তবে কার কী রোগ আছে, সেটির ওপর ভিত্তি করেই ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
ডায়াবেটিস থাকলে?
আম ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের এসব ফল খেতে হবে খুবই মেপে। আম ১–২ টুকরা (৪০–৫০ গ্রাম), লিচু ৩–৪টি, জাম ৮–১০টি খাওয়া যেতে পারে। ফল খাওয়ার আগে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা ও পরে কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
হৃদ্রোগীর জন্য?
এই ফলগুলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে অতিরিক্ত খেলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
কিডনি সমস্যায়?
আম ও জামে থাকে মাঝারি পরিমাণ পটাশিয়াম, যা কিডনি রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয়। দিনে ১–২ টুকরা আম ও ৮–১০টি জামই যথেষ্ট। লিচুতে তুলনামূলক কম পটাশিয়াম, তবে বেশি খাওয়া নিরাপদ নয়।
গর্ভাবস্থায় কি খাবেন?
গর্ভবতীরা দিনে ১–২ টুকরা আম, ৩–৫টি লিচু, ও এক মুঠো জাম খেতে পারেন। তবে আগে ফল ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং বিশেষ সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ওজন কমাতে চান?
তাহলে ‘পরিমাণে’ খাওয়াই চাবিকাঠি! মিষ্টি ফলে ক্যালোরি বেশি, তাই নিয়ম মেনে খান—তা হলে গ্রীষ্মকালীন ফল উপকারী হতে পারে শরীরের জন্য।
স্মার্ট উপদেশ:
সবাই ফল খেতে পারে, কিন্তু “বেশি নয়, বুঝে খাওয়াই” হোক এই গ্রীষ্মের স্লোগান!
তথ্যসূত্র:
ডা. নওসাবাহ্ নূর, সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, পপুলার মেডিকেল কলেজ.